ত্রিধার]। ৯.

শ্রীচন্দ্রনাথ বনু প্রণীত।

. ঠ্রথম রঃ

71127 ০০

কলিকাতা, ২*১নং কর্ণওয়াঁলিন্‌ সীট, বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্রেরী হইতে শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত নং গোয়াবাগান ্ট্ী, ভিক্টোরিয়া প্রেসে, শ্রীমণিমোহন রক্ষিত দারা! মুদ্রিত দন ১২৯৭ নাল।

মূল্য এক টাকা! মাত্র

উৎসর্গ।

যাছু! | তুমি পড়িবে বলিয়া! যে প্রবন্ধটি দিলাম দেই প্রবন্ধটি একবার পড়িও। আমি স্থুখী হইব এখন কোথায় আছ ঠিক জানি না। যেখানেই থাক, আশীর্ববাদ করি এবার দীর্ঘজীবী হইও।

«নং রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ই্রীট ১১ই মাঘ, ১২৯৭ সাল।

কলিকাতা ]

সুচীপত্র।

ডি না +

ই: 2 রদ 94 প্রথম ধারা। এ. অনন্ত মহ 7486 262 পাখিটি কোথায় গেল? **, 2 নর ১০ ছায়া ,.. মে নি ১৬ বউ কথা কও ** ২৭ দুইটি হিন্দু পড়ী হু 5 ৩৩ সুখের হাট সৌন্দর্যের মেলা ... ৪৫ ইন্ড্রিয়ের আকাঙ্কা .** রা দ্বিতীয় ধার! কেতাব কীট ... রে ৬৭ শ্লেচ্ছ পণ্ডিতের কথা ১০ ৭৩ জীবনের কথা ... ৮৩ তৃতীয় ধারা সিদ্ধিদাতা গণেশ *** রি টুন ৯১ বাঙ্গালির প্রকুত কাঁজ ৯৭ ৰর্ণভেদ জাতীয় চরিত্র তত **:১%১ দেব-ধন্মী মানব টি রঃ ১১৬ গাপপুণ্য ১, তত ০০১২৯ পরিশিষ্ট জন্ত-ধন্মী মানব ১৪১

প্রথম ধারা।

1 বধ ছিরে

কালের গতি অবিরাম কাল কেবল চলিতেছে কবে কোথায় চলিতে আরম্ভ করিয়াছে কেহ জানে না, কেহ কহিতে পারে না। কিন্তু সকলেই দেখে চলিতেছে-কেবলই চলি- তেছে। আবার শুধু চলিতেছে ?--তীষণ বেগে চলিতেছে !

কাল চলিতেছে_সক্ষে সঙ্গে বিশ্বব্রক্মাণ্ড ঢলিতেছে_- অথবা বিশ্বত্রদ্ষাও সঙ্গে লইয়া কাল চলিতেছে। যেন কালের বেগে বেগপ্রাপ্ত হইয়া সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বত্হ্মাও ভীষণ বেগে চলি- তেছে! একবার যে এক জায়গায় ছুই দও দাঁড়াইয়া দেখিব কাল কেমন, বিশ্বত্রন্দাওড কেমন, তাহার যো নাই। দীড়াইব কেমন করিয়! আমিও যে কালের সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ বেগে চলিভেছি। কালের স্রোতে ভাপিতে ভাসিতে যাই, আর কত কি দেখি। কিন্তু হায়! এই মাত্র যাহা দেখিয়াছি তাহা আর দেখিতে গাই না-_কালের ভীবণ ভ্রোতে তাহা কোথায় চলিয় গেল দেখিতে পাই না, আমিই বা কোথায় চলিয়া আসিলাম বুঝিতে পারি না! অতএব কালও দেখিতে পাই না, কাল- আোতে প্রবাহিত বিশ্বব্ন্ষাণ্ডও দেখিতে পাই না! বড়ই ছুঃখ__ ক্ষোভের সীম! নাই !

কবি বলেন ক্ষোভ করিও না-তোমার মনের ছুঃখ ঘুচাইব। দেখ দেখি--

ত্রিধারা।

পৃথিবীর মধ্য প্রদেশে _ ষথায় প্রকৃতির নমন্ত অনুরাগ ূ্ণমাত্ৰায় প্রস্টিত, গ্রজ্লিত--কেমন একটি ল্ুন্দর, স্বচ্ছ, জ্ুগভীর সরোবর পড়িয়া রহিকনাছে! সরোবরে তরঙ্গ নাই-, কেবল মাত্র উহার জল একটু উষ্ণ উহা! এত গভীর, কিন্ত উহার তলদেশ পর্ধা্ত যেন চক্ষের নিকটেই পড়িয়া রহিয়াছে উহার তলদেশে পাক কি কর্দম কি বালুকা কিছুই দৃষ্ট হয় না-দৃষ্ট হয় কেবল উচ্চ উষ্ণ আলোকময় দীপ্তিপূর্ণ সান্ধ্যা কাশের দিন্দুরসদৃশ ঘোরতর অন্থরাগ ।- ভ্রম হয়, সিন্দর- সম অনুরাগ আকাশে না সরোবরে

অমন অনেক দেখিয়াছ__কিন্ত এমন দেখিয়াছ কি 1-+

উচ্চ উষ্ণ সাদ্ধ্যাকাশের সি্দুররাগ ঘুচিয়া গিয়াছে যেখানে সিন্দ,ররাগ ছিল, সেখানে এখন মেঘরাশিতে যেন আগুন লাগিয়াছে_-ঝড়ে নেই জলভ্ত মেঘরাশি ভীষণভাবে ভীষণ বেগে ছুটাছুটি হুড়াছুড়ি মারামারি করিতেছে কিন্ত সেই সুন্দর স্বচ্ছ সরোবর তেমনি স্থির_উহ্াতে একটি তরঙ্গ নাই, উহার জলের এতটুকু আন্দোলন নাই, উহার বারিরাশি যেন উন্মত্ত জলভ্ত মেঘরাশি বুকে করিয়া মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় তেমনি নিঃশব নিষ্পন !

বল দেখি এ-তুফানের এই-সরোবর যে দেখে সে আর উহা ভুলিতে পারে কি-_পৃথিবী দেখিলে পৃথিবী আর উহা! ভুলিতে পারে কি-বিশ্বত্রক্মাগ্ড দেখিলে বিশ্বত্রন্মাওড আর উহা ভুলিতে পারেকি ?বল দেখি_ এ-তৃফানের এ-সরোবর যে দেখে,সে উহা অন্ত কাল দেখে কি না? বল দেখি, এই মুহুর্তের এই সরো- বর অনস্ত কাল কিন? বল দেখি- এই মুহূর্তে অনন্ত কাল

অনস্ত মুহূর্ত

প্রবিষ্ট হইয়াছে কি না_-কালের অনস্ত আোত অবরুদ্ধ হইয়াছে কি না-যে কাল বিশ্বব্রন্মীকে লইয়া কেবলই চলে, সে কাল বিশ্বব্রক্ষাডকে ল্‌ইয়া একবার অনস্ত কাঁলের জন্য দ্াড়াইয়াছে কি না? বল দেখি-_এই মুহূর্ত অনস্ত মূহ্র্ত কি না? এখন শুন__ 70850275972. 00031) (16163 120160) 19961697)

10100 80000 1010 40 00100002620) : 006 700. 8102]] 000159 21] অ০]1,

0%9110, 410 2০: ৪01০ 06 009৮ ? 7798 1010? 0. 7/7151%11 %0% 79৫00 2০, ৫৪ %/0% ০৮01-[7296৭5. 19৫069- [79 010 7006 ০21] 5100251১097 10) 0)6 10879: 19 07975 01519107516 05 1074 800.085310 ? 1728, 4 00096 90002] ০০০৩) 7 ০০] 0০ 79001 0 20206 61300 100 00০ 10৬0 1 1১827. 69 083910,

017... 7179 00. 07107860209 !

7928. 15 1010 ? 0%%. 406 70 159 ? 41025. 1056১ 05 0৩ ৪000?

100. সুঞচ ১০, 09 19669070050 10170)

207 03 [00100 ০ঠ 0০900077200 1100 30209) 1)6])0610 095510 2 013 0০৮০:01790, 1968. [টা 100 6০6] ] 000 81 ০00৮

0. 70990 ? 4703. ছাট 10৭? 0৮. 1065111 [87179 77. 7728. [17959 7006 0938:৮+0 (1019.

40৫. [101,015 ০৪] 10061১6 109119570 10 ৬০10৪,

ত্রিধারা।

[1০9৮9 1 80010 ৩০০: ] ওঠ 1 77113 501] 00001) 11159 0067 2106009, 9109 দা 66])9- 0. 0 91], 0951]! [1 079৮ 079 ০2৮) ০০1৭ 89910. সা10। 01002178 66218) 70০01) 0:01) 979 £113 ০০1৫ 0:09 0:0900119 :-- 98৮ 7 51011 7069. 7 সঃ] 006 3625 60 ০0670 700, [ 99%7, “নু জা] 0০% ৪/ট 6০ ০0000 5০০৮-ইহাতেই তৃফানের সেই অপূর্ব্ব সরোবর-_ইহাই সেই অনন্ত মুহূর্ত আর এক জন কবি কি দেখাইতেছেন দেখ দেখি_- অত্যুচ্চ অভ্রভেদী হিমাচলের কোলে শান্ত শব্হীন সৌন্দরঘ্য- ময় বনপ্রদেশ। তথায় স্বচ্ছ শুভ্রসলিল! মালিনী নদী নিঃশবে প্রবাহিত1-_মালিনীর পার্থে পুণ্যবান্‌ খধির পবিত্র আশ্রম। আশ্রম নিস্তৰ-যেন যোগীর ন্যায় যোগমগ্র। হঠাৎ বিদ্যুদু বৎ বক্রধধ্বনি হইল-_.

অয়মহং ভোঃ হিমাচল, মীলিনী, বৃক্ষ, বন, বাঘু, পশু, পক্ষী, খষি, খষি- কুমার, খধিকন্যা, সেই গভীর নিস্তব্ধতাসকলই চমকিয়] উঠিল। কেবল চমকিল না--একখানি ক্ষুদ্র কুটারে একটি ক্ষুদ্র বালিকা! দেখিয়! বজ্জের ক্রোধ বাঁড়িল। বজ্র হিমাচল, মালিনী, বৃক্ষ, বন, বায়ু সমস্ত বিদীর্ণ করিয়া গর্জিতে লাগিল--. বিচিত্তয়ন্তী ঘমনন্যমানসা তপোধনং বেৎসি মামুপস্থিতম্‌।

অনস্ত মুহুর্ত

ন্মরিষ্যতি ত্বাং নন বোধিতোইপি মন্‌ কথাং প্রমন্তঃ প্রথমং কুতামিব ]

সব বিদীর্ণ হইল__হইল ন] কেবল সেই ক্ষুদ্র কুটারে সেই . ক্ষুদ্র বালিকা! বালিকা তথন ত্রন্াগাস্তরে বিলীন। বজও সে বিলীনতা! বিদীর্ণ করিতে পারিল না। বালিকা যেমন তাহার ্রন্মাণ্ডে বিলীন, বন্রুও ভেমনি সেই বালিকার বিলীনতাঁয় বিলীন হইয়া গেল!

বল দেখি-বাঁলিকার এই বিলীনতায় বজ্রের এই বিলীনতা দেখিলে বিশ্বত্হ্দাও সেই সংযুক্ত বিলীনভায় অনন্তকাল বিলীন হইরা থাকে কি না-_যে কাল কেবলই চলে, দেই কাল মেই বিলীনতায় অনন্তকাল বিলীন হইয়া থাকে কি না? বল দেখি-- যে মৃহার্তে বালিকার এই বিলীনতাঁয় এই ভীষণ বঙ্কে বিলীন ; হইতে দেখি, সে মুহর অনন্ত মুহুত হর যায় কি না?

সেই কবি সীতা! দেবার দিকে অঙ্গ,নি নির্দেশ করিয়া কি বলিতেছেন শুন _

পীত| নিতান্তই রাম-লইয়া--লীত। নিতান্তই রাম-সর্বন্থ সেই জনাই সীতা ছায়ার নায় রামের অন্থুগামিনী-__যেখানে রাম, সেইখানেই সীতা-_দুখে কষ্ট বিপদ, কিছুতেই ভ্রক্ষেপ নাই__রাজপুরী তুচ্ছ করিয়া শীতা অরথ্যবাসিনী, অশোকবনে বমিয়! সীতা দৃদ্ধ্ব রাক্ষসকুলবিনাশিনী। রাম ব্যতীত সীতা জীবন্মৃতা__রাম ধ্যান, রাম জ্ঞান, রামমাত্র সার। তাই রামের জন্য সীভা ত্রিলৌকসমীপে অগ্নিপরীক্ষ। দিয়াছেন--তাঁই আবার হৃদয়ে রামকে ধরিয়া সিংহাদন ছাড়িয়া বনবাঁসযন্ত্রণী ভোগ করিয়াছেন আজ আবার দর্বলোকসমক্ষে রাম বলিতেছেন_,

শি ত্রিধারা।

পরীক্ষা! দেও। এতও কিসয়? সীতার আর সহিল না! তাহার জ্ঞান বুদ্ধি হৃদয় সকলই ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হইয়া গেল। তিনি আর তিনি থাকিতে পারিলেন না। বলিলেন-যদি আমি কায়মনোবাক্যে পতি হইতে বিচলিত হইয়া না থাকি, তবে দেবি বিশ্বস্তরে ! আমাকে অস্তহিত কর ।” সীতা পতি হইতে বিচলিত হন নাই, কিন্ত আজ দেবতাঁদের নিকট যাহা চাঁহিতে- ছেন তাহ! পাইলে তিনি যে তাহার সেই পতিকে হারাইবেন, সেই পতিকে যে দেখিতে পাইবেন না,সে জ্ঞান তাহার গিয়াছে। ফলে, আজ সীতারপী ব্রদ্মাও মেরুদও হারাইয়! দিক-হাঁরা, পথ- হারা, আপন-হারা। তবুও কিন্তু ব্রন্ম-হাঁরা নয় !

না সীতামস্কমারোপ্য তর্তৃপ্রণিহিতেক্ষণীম্‌।

মামেতি ব্যাহরত্যেব তন্মিন্‌ প1তালমভ্যগাৎ্থ

তখন মীতার নয়নদ্বয় পতির প্রতি স্থিরীকৃত, বন্ুদ্ধরা সীতাকে ক্রোড়ে লইলেন, এবং রাম, “না” “না,” ইহা বলিতে না বলিতেই রসাতলে প্রবেশ করিলেন।

“তখন সীতার নয়ন্দর পতির প্রতি স্থিরীকৃত 1” ব্রহ্মাণ্ডের মেরুদণ্ড ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, ব্রক্মাও চূর্ণ হইয়া গিয়াছে, তবুও ব্রহ্মা আপন ত্রন্ষকে আগেও যেমন এখনও তেমনি হৃদয় ভরিয়া! ধরিয়! রহিয়াছে ! এই অপূর্ব ব্রন্মাণ্ড দেখিয়া বিশ্বত্রক্ষাও অনস্তকাল স্তত্তিত-_মহাঁকাল বিম্ময়ে অচল এই অপূর্ব ব্রক্মাও একটি অনন্ত মুহূর্ত!

আর একজন কবি কি কহিতেছেন শুন দেখি--

একটি কাল ছোট সুন্দর মেরে-_নাম ভ্রমর ভ্রমরটি এমনি ছোট যে বোধ হয় যেন একটি অঙ্গুলির টিপনিতেই মরিয়া

অনস্ত মুহূর্ত।

যায়। কিন্তু এই ক্ষুদ্র ভ্রমরের ক্ষুদ্র প্রাণে প্রেমের সমুদ্র-_অনস্ত, অতলম্পর্শ। সে সমুদ্রের যেখানে খোজ--দেখিবে কেবল গোবিনলাল। কিন্তু গোবিন্দলাল পাপী। তাই এই স্ষত্র ভ্রমরের তেজ নিধৃহ শার্দংলের তেজ অপেক্ষাও বেশি গোঁবিন্দ- লাল মুষ্টিভিক্ষা চাহিতে আসিয়াছে--বলিলে তখন সে প্রাণ পর্ধাস্ত বলি দিতে পাঁরে, পণ পর্য্যস্ত বলি দিতে পারে। তবুও রাগ পড়িল না-তেজ কমিল না। এত তেজ এত রাগ দেখিলে যেন রাগ হয়

কিন্তু ইহা বা কি দেখিলে? দেখিবে এইবার দেখ ক্ষুত্্র ভ্রমরের অন্তিমকাল উপস্থিত। ভ্রমর এখন গোবিন্দলালের জন্য লালাপ্লিত--একটিবাঁর মাত্র গোবিন্দলালকে দেখিবার জন্য ছট ফট. করিতেছে গোবিন্দলাল দেখা দিতে আসিয়াছে__ আপনি আসে নাই, ডাকিয়! আনিয়াছে তাই আসিয়াছে ভ্রমর সে কথা শুনিয়াছে! গোবিন্দলালকে দেখিয়া! ভ্রমরের মৃত্যুযন্ত্রণী ঘুচিয়া গেল-ত্রমরের সাত বৎসরের হ্ৃদয়াগ্নি নিভিয়া গেল-ত্রমরের ইহকাল পরকান সার্থক হইল। তবুও ভ্রমর বলিল--'আশীর্বাদ করিও যেন জন্মান্তরে স্তুখী হই'--বলিয়! ব্রমর মরিয়া গেল ! ভ্রমরের উপর এত যে রাগ হইয়াছিল তাহা কোথায় চলিয়া গেল। ভ্রমরের জন্য প্রাণ কাদিয়া উঠিল। কিন্ত হৃদয়ে যত দুঃখ উপজিল, হৃদয় তাহার সহস্রগুণ বিস্ময়ে পূরিয়া উঠিল যে গোবিন্দলালকে না দেখিতে পাইয়া ভ্রমর আজ মৃত্যুশয্যার, সেই গোবিন্দলালকে এ-েন মৃত্যু-মুহর্তে ইহ- জন্মের মতন একটিবার দেখিতে পাইয়াঁও ভ্রমর বলিল কি না-- 1'যেন জন্মাস্তরে সুখী হই' ! সেই আগেকার মতন কাটা কাটা

ত্রিধারা

৯১৮

কথা নয় বটে, কাঁতরভার কথা। কিন্তু ইহাতেও সেই আগেকার তেজ, আগেকার কঠোরতা আছে। কথা শুনিলে কানা পায় বটে, কিন্ত কথাও যে পাপীর কাছে তাহার পাপের কথা -পাপীর প্রতি পাপের জন্য তিরক্ষারের কথা। মিছরির ছুরি যাহাকে বলে, কথা যে তাহাই ভ্রমরের সব ভাঙ্গিয়াছে_-অস্থি, ইন্দ্রিয়, মস্তিষ্ক, দেহ, মন, বিশ্বত্রহ্গাওড সব ভাঙ্গিয়াছে, কিন্ত সে গোবিন্দলালও ভাঙ্গে নাই, আর গোবিন্দ- লাঁলের প্রতি সে কঠোরতাও ভাঙ্গে নাই ! বল দেখি_-এই বিষম দৃশ্য দেখিয়া! বিশ্বত্রক্ষাও স্তম্ভিত হইয়া যায় কি না, মহাকাল থমকিয়া দাড়ায় কিনা? এখন বুঝিলাম ভ্রমরের রাগ, ভ্রমরের তেজ-দর্পও নয়, অহঙ্কারও নয়» প্রেমের অভিমান পুণোর কঠোরতা আর সে অভিমান কি ?-_না, প্রেমের আকাঙ্ষ। পূর্ণ হইল না বলিয়া, ভালবাসার পাত্রকে পাপ স্পর্শ করিল বলিয়া মরমের যন্ত্রণ1। সে যন্ত্রণা কিছুতেই খুচে না, ঘুচে কেবল অসন্পূর্ণকে পূর্ণ দেখিলে-_পাপীকে নিষ্পাপ দেখিলে তাই, গোবিন্দলাল অসম্পূর্ণ বলিয়া, মরিতে মরিতে ভ্রমর তাহার প্রতি তেমনি কঠোর। পুণ্যের কঠোরতা বিষম কঠো- রতা_এতটুকু অসম্পূর্ণত। থাকিতে পুধ্যের কঠোরতা যায় না। পুণ্য দেয়ও যোল আনা, চায়ও যোল আনা, কাগক্তান্তিটিও ছাড়ে না। লেশমাত্র পাপ বা অনম্পূর্ণতা থাকিতে প্রেমময় ভগবানকে পাওয়। যায় না। ভ্রঘরের এই বিষম কঠোরতা সেই প্রেমময়ের কঠোরত|। কিন্তু সে কঠোরতা কেবলই কঠোর নয়_সে কঠোরতা করুণে-কঠোর | অসম্পূর্ণতা যন্ত্রণার কারণ বলিয়। পুণ্য অসন্পূর্ণতার প্রতি এত কঠোর। পুণ্যের কঠো-

অনন্ত মূহ্র্ত।

রত করণে-কঠোর। তাই আজ পুণ্যবতী গোবিনলালকে আপনার যন্ত্রণার কথা বলিয়া তাহার আশীর্বাদ লইয়া বিশ্বরক্মাও কীদাইয়। চলিয়া গেল। ধর্ম বুক খুলিরা আপন যন্ত্রণা দেখা- ইয়া বলিয়! গেল, পৃথিবীর যন্ত্রণা ঘুচাইও-পূর্ণ হইবে পৃজ্য হইবে। তাই দেখিয়া বিশ্বত্রক্মাওড অনন্তকাল বিদ্মিত ভক্তি- পূর্ণ চিত্তে সাশ্র নয়নে ভ্রমরের পুজা ক'রল আর স্বয়ং কাল যেন তাহা দেখিবার জন্য অনন্তকাল দীড়াইয়া রহিল! ভ্রমরের মৃত্যু-মুহূর্ত সত্যই একটি অনন্ত মুহূর্ত !

এইরূপে আমাদের কবিগণ কালের গতি রোধ করেন এবং অনন্ত কালকে মুহূর্ত কালে প্রবিষ্ট করাইয়া দেন। কালের ভঙ্গি ভ্রকুটা আদি নষ্ট করিরাই তাহার! কালকে বাঁধিয়া ফেলেন। তাহারা দেখেন যে ঈশ্বরের কাছে কালের জকুটা ভঙ্গি কিছুই নাই_ ঈশ্বর অনস্তকালেও যা মুহূর্ত কালেও তাই।-ঈশ্বর অনন্ত মুহূর্ত সেই চরমাদর্শ শিরোপরি রাখিয়া তাহারা সাহিত্যে অনন্ত মুহুত্ত স্ষ্টি করেন_বুঝি বা! তাহাদের ইচ্ছা ষে মান্থষ যেন এতই উচ্চ, এতই ঈশ্বর-সর্শ হয় যে কালে তাহার বিপধ্যয় ন! ঘটে, আর যখনি তাহাকে দেখা যায় তখনি তাহাকে যেন পূর্ণ দেখা যাঁয়_তখনি যেন তাহার সমস্তটা দেখা যায় কবির সাহিত্য বড় জিনিস কবির কাহিনী বড়ই গুঢ়। ব্রন্ষা- ওের মহাঁকবির উপানক না হইলে কবির সাহিত্য, কবির কাহিনী বুঝা ভার।

পাঁখিটি কোথায় গেল ?

দ্বারে একটি পাখী। বন্ধু নয়, ভিখারী নয়, অতিথি নয়, একটি পাখী আমি কখনও পাখী পুধি নাই_-তবে আমার দ্বারে পাখী কেন? মানুষটিকে জিজ্ঞাসা করিলাম_“এখানে পাখী আনিলে কেন? সে বলিল-_“পাখী পুধিবেন কি?" আমি কখনও পাখী পুষি নাই পাখী পুষিতে কখনও সাধও হয় নাই। যদি বা কখনও পাখী পুধিবার কথা মনে করিয়াছি বা কাহাকেও পাখী পুধিতে দেখিয়াছি তখনই ভাবিয়াছি-- বনের পাখী বনে থাকিলেই ভাল থাকে-যে অনন্ত আকাশে উড়িয়। বেড়ায় তাহাকে ক্ষুদ্র খাচায় পুরিলে সে বড়ই ক্লেশ পায়। এই ভাবিয়া কখনও পাখী পুষি নাই এবং কাহাকেও পুধিতে দেখিলে ছুখে বৈ সুখ পাই নাই। কিস্ত মানুষটি যখন আবার বলিল--'পাখী পুষিবেন কি ?--কি জানি কেন, মনটা কেমন হইয়া! গেল, মনে হইল বুঝি আমি পাখিটিকে না লইলে মান্ষটি তাহাকে কতই কষ্ট দিবে__পাখিটিকে ধরিয়া কত কষ্টই দিয়াছে--অনায়ামে অবলীলাক্রমে অপূর্ব-আনন্দভরে পাখীটিকে ধরিয়া কত কষ্টই দিয়াছে__-আঁবার অনায়াসে অব- লীলাক্রমে অপূর্ব-আননতরে তাহাকে আরো কত কষ্ট দিবে। এই ভাবিয়া মনটা কেমন হইয়| গেল। তায় আবার দেখিলাম যে পাখিটি যেন নিজাঁব হইয়াছে, ভাল করিয়া ধুকিতেও পারিতেছে নাভয়ে জড়দড় হইয়াছে, বুঝিবা কতই আকুল হইয়াছে, বুঝিবা তাহার ক্ষুত্র কতই শুকাইয়া উঠিয়াছে!

পাখীটী কোথায় গেল? ১১

বড় ছুঃখ হইল। আমি বলিলাম--পুষিব। মানুষটি বলিল, আটটি পয়না পাইলেই পাখীটি দি। পাখীটি যেন ধুঁকিতেও পারিতেছে নার দাম করিতে গেলে বা মারা যায়। তৎ- ক্ষণাৎ আটটি পয়সা দিয়া পাখীটি লইলাম এবং এক প্রতি- বাসীর নিকট হইতে একটা খাচা লইয়া পাখীটিকে তাহাতে রাখিয়া ছুগ্ধ ছাতু জল খাইতে দিলাম দিয়া তাহার মুখের দিকে চাহিয়া! বসিয়া রছিলাম। অনেকক্ষণ বসিয়] রহিলাম। তবু পাখীটি খাইল না। অর্ধ মুক্রিত নেত্রে আস্তে আস্তে ধূকিতে লাগিল। মনে হইল বুঝি আমাকে দুষজুন ভাবিয়া ভয়ে খাইতেছে না একটু সরিয়া গেলাম পাখাঁটি আমাকে আর দেখিতে পাইল না খানিক পরেই একটু ছাতু জল খাইল। আমি বুঝিলাম__আমাকে ছুষমুন ভাবিয়াই এতক্ষণ খার নাই। কিন্তু ছুষমুনের ঘরে ছুষ মুনের সামগ্রী খাইল ত। আমি তাহার এত ন্ুখ এত সামগ্রী হরণ করিয়াছি কিন্ত আমার ঘরে আমার জিনিস থাইল ত। পেটের দায় এমনি দাঁয়। পেটের মতন যন্ত্রণা জগতে আর নাই-__-পেটই তজগতে এত কলঙ্কের মূল। আমার পাখী পেটের যন্ত্রণা তুচ্ছ করিতে পাঁরিল না__-পেটের জন্য ছুষ মুনের জিনিস খাইয়। কলঙ্কে ভুবিল বুঝিলাম আমাদের ন্যায় পাখীও ক্ষুন্্, পাখীও ছুর্বল। পাখীর উপর মায়া হইল। সে দিন আর পাখীর কাছে গেলাম না। প্রাতে উঠিয়া দেখি পাখী দিব্য খাঁওয়া- দাওয়া করিয়াছে। ছাতুর বাটিতে ছাতু প্রায় নাই, জলের বাটিতে জলও কিছু কম এবং খাঁচার নীচে মেজের উপর কিছু ছাতুর গুড়! এবং হ্ুই চারি ফৌঁট] জল পড়িয়া আছে। বড়

ত্রিধারা

জাহলাদ হইল। পাবীর কাছে গেলাম-। পাখী সরিয়! খাচার এক কোনে গিয়া বদিল। প্রায় এক ঘণ্টা কাঁল সেইখানে দড়াইয়া রহিলাম | পাঁখীও সেই এক ঘণ্টা কাল সেই কোণে বসিয়া রহিল কিছু খাইল না আমি সরিয়। আপিলাম-_পাখীও খাইতে লাগিল। তখন আবার ভাঁবিলাম--পাথী আমাকে গ্রথনও ছুষমুন ভাবিয়া খাইতেছে নাঁ। ভাল, এমন করিয়া খাওয়াইতেছি তবুও পাখী আঁমাকে ছুষষুন ভাঁবিতেছে? ভাবিবে না তকি? নর্ধন্থ কাঁড়িয়। লইয়া কেবল পেটে খাইতে দিতেছি বলিয়া কি সে আমাকে পুষ্পচন্দন দিয়! পূজা! করিবে? পেটটা কফি এতই বড়? তবে কেন পাখী আমাকে ছুষ মুন ভাবিবে ন1? কিন্ত মন হই আঁর যাই হই, আমি পাখীকে পয়সা দিয়া কিনিয়াছি বটে; তবে কেন পাঁখী আমার হয় না? মানুষকে পয়সা দিলে মান্য মানুষের হয়; মাহ্ষকে পয়সা দিলে মাগষ মাহ্গষের মন যেগায়, গোলামি করে, গুণগান করে, সবই করেও) মানুষকে পয়সা দিলে মানুষ মানুষকে গতর দেয়, মানমর্ধ্যাদা দেয়, পুণ্যধর্শ্শ দেয়, সব দেয় পাখীকে পয়সা দিয়! কিনিলাম তবে কেন পাখী আমার হয় না, আমাকে কিছু দেয় না? কিছুই মীমাংসা করিতে পারিলাম না। বোধ হইল বুঝি পাখী নীচ জন্ত, পয়সার মাহাস্ম্য জানে না, পয়সার জন্য সব করা যাঁয় সব দেওয়1 যায়, উচ্চ মাঁনব- নীতি বুঝিতে পারে না আরে! ছুই চারি দিন গেল আবার একবার পাখীর কাঁছে গেলাম দেখি সেখানে আমার একটি ছোট ছেলে বসিয়া আছে। পাখী আমাকে দেখিয়া আর তেমন করিষা সরিয়া গেল না। ছেলেটিকে কোলে করিয়া

পাখীটী কোথায় গেল? ১৩

আমি তাহার সহিত পাখীর কথ! কছিতে লাগিলাম। পাখী খাইতে লাগিল বুঝিলাম পাখী খাচা চিনিয়াছে। মনে ছুঃখ উথলিয়! উঠিল অনস্ত আকাশে উড়িয়া উড়িয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া উঠিয়া উঠিয়া নামিয়া নামিয়া। যার আশ. মিটে না, কেন তাহাকে, হায়! হার! কেন তাহাকে ক্ষুত্র খাচায় পুরিলাম! কেন তাহাকে ক্ষুদ্র খাচা চিনাইলাম ! কেন তাহাকে অনস্ত ভূলাইলাম ! মহাপাতক কেন করিলাম ! ছুই এক দ্িন বড়ই কষ্টে গেল। এক একবার মনে হইতে লাগিল পাঁখীকে উড়াইয় দ্ি। একবার খাচার দ্বার খুলিয়া দিলাম পাখী উড়িয়া গিয়া একটা জানালার উপর বলিল আবার মনটা কেমন করিতে লাগিল-_পাখী পালায় ভাবিয়া! প্রাণটা কেমন হইয়! গেল-_অমনি পাঁখীকে ধরিয়া আবার খাঁচায় পুরিলাম আপনার কাছে আপনি হারিলাম | কেন হারিলাম বুঝিতে পারিলাম না সত্য সত্যই কি মহাঁপাতক করিলাম ?

এক দিন ছেলেগুলিকে লইয়া! পাখীর কাছে বসিলায়। পাখী যেন কতই আহ্লাদিত হইয়া! খাঁচার ভিতর লাফালাফি করিতে লাগিল এবং একবার ছেলেটির দিকে একবার ছেলেটির দিকে যাইতে লাঁগিল। আমরা সকলে আহ্লাকে হো হো করিয়া হাসিতে লাগিলাম এবং করতালি দিতে লাগিলাম। পাখী ভয় পাইল না_-তেমনি লাফালাফি করিতে লাগ্িল। আমি একটু ছাতু লইয়া পাথীকে খাইতে দিলাম-- পাখী থাইল না। আমার একটি ছেলে একটু ছাতু লইয়া খাইতে দিল, পাখী টুপ্‌ করিয়া খাইয়া ফেলিল। মনে হইল আমার ছেলেগুলির সহিত পাখীর ভ্রাতৃভাব হইয়াছে--ছেলে-

১৪ ত্রিধার!

গুলিকে বলিলাম, উটি তোমাদের ভাই। সেই দিন হইতে পাখীটিও আমার ছেলে হইল পাখীটকে আমার হৃদয়ের খীচায় পুরিলাম। সে খাঁচার সীম] নাই, অর্গলযুক্ত দার নাই, আশে পাশে মাথায় পায় ঠেকে এমন কাটির কাঠাম নাই। পাখীকে সেই অলীম অনস্ত অতলম্পর্শ খাচাঁয় পুরিলাম। মহা- পাতকের ভয় কোথায় চলিয়া গেল। মন আনন্দে মজিয়া উঠিল পাখীও আর তাঁহার বাশের খাঁচায় এখানে ওখানে ঠোঁট গলাইয়া পালাইবার চেষ্টা করে না। এখন বাঁশের খাচার দ্বার খুলিয়! রাখি, পাখী উড়িয়া! যায় না। খাঁচার দার খুলিয়। রাখিলে পাখী এক আধবার আমার কাছে আমে, এক আধবার আমার ছেলেদের কাছে আসে আবার নাচিতে নাচিতে ধাচার ভিতর গিয়া বসে খীচা এখন পাখীকে বড় মিষ্ট লাগে। খাচার এখন আর নীম! নাই, খাঁচা এখন অপীম অনভ্ত অতলম্পর্শ। খাচার এখন আর কাটির কাঠাম নাই__ আশে পাশে মাথায় পায় লাগে এমন কাটির বেড়া নাই। খাঁচা এখন পাখীর বড় সখের বড় সাঁধের ঘর পাখী এখন খাঁচার নেশায় ভোর আমি এখন পাখীর নহিত কত কথা কই, পাখীও আমার সহিত কত কথা কয়--যেন কত আদরের, কত আব্দারের কথা কর, কত চেনা দেশের কথা কয়, কত অচেনা দেশের কথ। কয়, কত হাসে, কত কীদে, কত গান গায়, কত বকে, কত্ত ঝগড়া করে, কত অভিমান করে, কত ভাঁৰ করে,কত ভ্রকুটি করে, কত ভগ্ডামি করে। পাথীকে আমি কত রকম করিয়! দেখি, পাখীও আমাকে কত রকম করিয়া দেখে পাখীর খীচা খুলিয়া দ্ি। পাখী আসিয়া আমার কাধের উপরে বনে, আমার

পাখীটী কোথায় গেল? ১৫

হাতের উপর বপিয় ছাতু খায় আমি এখন আর পাখীর সে ছ্ষজুন নই আমি এখন পাখীতে মজিয়াছি, পাখীও এখন আমাতে মজিয়াছে। এখন অনম্ত আকাশ স্থদয়ের অনস্তত্বে ডুবিয়া গিয়াছে_-পাখী এখন আর অনস্ত আকাশ থোজে না, তাহার অনভ্ত-আকাশের তৃষ্ণা আর নাই। নে এখন আকা- শের অনস্তত্ব ভুলিয়া হৃদয়ের অনস্তত্বে মিলাইয়া গিয়াছে অনভ্ত-বিশব হৃদয়ের ভিতর বিন্দু অপেক্ষাও বিন্দু। বিশ্ববিন্দু হৃদয়ের কাছে কোন্‌ ছার? কিন্ত হৃদয়ের ভিতর অনস্ত বিশ্ব অনভ্ত হৃদয় হৃদয় বিশ্ব-দ্রাবক, বিশ্বের বিশ্ব। আমার পাখী নেই বিশ্বের বিশ্বে পশিয়াছে। তাহার কি আর সেই তুচ্ছ অনস্ত-আকাশের কথা মনে থাকে?

আহা ! আমার সে পাখী আর নাই ! আজ চারিদিন হইল আমার নে পাখী মরিয়া গিয়াছে! মরিয়া কোথায় গিয়াছে? কে বলিবে কোথায় গিয়াছে ? কিন্ত আমি দিব্য চক্ষে দেখি- তেছি, হাড়ে হাড়ে অনুভব করিতেছি যে পে মরিয়া অনন্ত হইয়াছে। আজ আমি যেখানে যে রঙ. দেখি সেখানে সেই রঙে আমার সেই পাঁখী দেখিতে পাই যেখানে যে চোকু দেখি সেখানে সেই চোকে আমার দেই পাখী দেখিতে পাই। যেখানে যে ঠোঁট দেখি সেখানে সেই ঠোটে আমার সেই পাখী দেখিতে পাই। আজ আমি চন্দ্র হুধ্য নক্ষত্র অগ্রি বায়ু জল হিম তাপ পাহাড় পর্বত ধূল! বালি বৃক্ষ লতা ফস ফুল পশু পক্ষী কীট পতঙ্গ নর নারী মকলেতেই আমার দেই পাখী দেখিতেছি, হাড়ে হাড়ে আমার সেই পাখী অনুভব করিতেছি আজ অনন্ত বিশ্বে আমার সেই পাখী ছাড় আর কিছুই নাই।

১৬ ত্রিধারা

আজ আমিও আমার সেই পাখী-ময়, এই অন্ত বিশ্বও সেই পাখী-ময়। তাই আমিও আজ কি মধুময়,আমার অন্ত বিশ্বও কি মধুময়! আমার ক্ষুদ্র পাখী আজ অনন্ত কায়া ধারণ করিয়া অনস্তব্যাপী হইয়া পড়িয়াছে। আমার এক ফোঁটা পাখী আজ অপূর্ব শ্রী এবং অনৃপম সৌনার্ধ্য লাভ করিয়া অনস্ত বিশ্ব ভরিয়া রহিয়াছে তাইতে অনস্ত বিশ্বও অপূর্ব শ্রী এবং অনুপম সৌনর্ষ্যে শোভিত হইয়1 উঠিয়াছে। ভাগ্যে সেই এক ফে"টা গাখীতে মজিয়াছিলাম, তাইত আজ অনস্ত বিশ্ব দেখিলাম, অনন্ত বিশ্বে মজিলাম এবং অনন্ত বিশ্ব আঁমাতে মজিল। তাইত আজ অনন্ত হইলাম। তাইত আজ বুঝিলাম যে ফোটার ভিতরেই বিশ্ব ফোটে, ফোঁটা অনস্তেরও অনস্ত।

আমার গাখী আছে বৈ কি। কিন্ত আমার ছোট ছেলেগুলি আমাকে এক একবার জিজ্ঞাসা করে-_-পাখীটা কোথায় গেল ?

৫ই চৈত্র, ১২৯২।

ছায়।।

ছায়া কিছুই নয়, অতি অসার, অতি অপদার্থ-+]5 0৪৮ % 90500৭, ইহা! ছায়া মাত্র, কিছুই নয়। সকলেই এই কথা বলে। সব দেশে সকল সময়ে সকল লোকেই এই কথা বলে। কথাটা কি ঠিক? বোধ হয় না

ছায়! কিছুই নয়, তবে কি যাহার ছায়া তাহাই নব, তাহাই বিশেষ-কিছু? তাহা বুঝিতে পারি না। বৃক্ষের ছায়া যেন কিছুই

ছায়া। ১৭ পাগল?

নয়? কিন্তু বৃক্ষই বাকি? ছায়াতে যেন কিছুই নাই, কিন্ত বৃক্ষেতেই বা কি আছে? বৃক্ষে কিছু থাক. আর নাই থাক আমি মানষ আমি সে-কিছুর কিছুই জানি না। তবে আমার সন্বন্ধে বৃক্ষ কিছুই নয় বলিলে দোঁষ কি? তুমি বলিবে যে বৃক্ষ কি তাহা না জানিলেও বৃক্ষ যে কিছুই নয় একথা! বলা যায় না, কেন না উহা আমাদের ইন্ড্রিয়ের উপলব্ধির বিষয়, চোকে দেখ] যায়, স্পর্শে কোন-একটা-কিছু বলিয়া অনুভূত হয়। কিন্ত ছাঁয়াও আমাদের ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধির বিষয়_-ঢোঁকে দেখা ধায়। তবে বৃক্ষ এবং বৃক্ষের ছায়ায় প্রভেদ কি? ফল কথা, ছায়া যদি কিছু না হয় তবে বৃক্ষও কিছু নয়। তবে কিছু-নয় বলিয়া ছায়াকে এত অবজ্ঞ। কর কেন? আদল কথা এই যে ছায়ার মণ্তন জিনিস পৃথিবীতে বুঝি আর নাই, ছায়ার মতন রহস্য পৃথিবীতে অই আছে। পৃথি- বীর পৃথিবীত্ব পরিবর্তনে পরিবর্তন লইয়াই পৃথিবী রৌদ্রের পর মেঘ, মেঘের পর ঝড়, কড়ের পর বু, বৃষ্টির পর বন্যা_- বাল্যের পর যৌবন, যৌবনের পর প্রৌটাবস্থা, প্রৌঢাবস্থার পর বার্ধক্য_গ্রীক্মের পর বর্ধা, বর্ধার পর শরৎ, শরতের পর হেমন্ত, হেমন্তের পর শীত, শীতের পর বসন্ত--রাত্রির পর দিবস, দিবসের পর রান্রি-ইহাই পৃথিবীর পৃথিবীত্ব পরি- বর্ভন বদ্ধ হউক পৃথিবীও অদৃশ্য হইবে। কিন্ত পৃথিবীতে যত কিছু আছে সকলের মধ্যে ছায়ায় যত পরিবর্তন দেখি, আর কিছুতে তত দেখি না। হৃর্্যোদয় হইলে পর যেখার্নে ইচ্ছা সেইখানে বসিয়া! দেখিও ছায়ার কত খেলা এবং কি চমৎ- কার খেলাই হইতেছে! মুহূ্ পূর্বে যে ছায়াটা দীর্ঘ ছিল,

১৮ পু ত্রিধারা

সেট ক্ষুদ্র হইয়। পড়িয়াছে, যে ছায়াটা সৌজ] ছিল সেট। বাঁকা হইয়া গিয়াছে, যে ছায়াটা উর্দমুখী ছিল সেটা অধোমুখী হইয়াছে, যে ছাঁয়াটা একলণ ছিল সেটা পাঁচটার সঙ্গে মিশিয়৷ কোলাকুলি করিতেছে। মুহূর্ত পূর্বে ষে ছায়াটার শুধু দুইটা হস্ত ছিল সেটার দুইটা পাও হইয়াছে, যে ছারাঁটার মাথা ছিল না সেটা একটা বৃহৎ মাথায় একটা বৃহ পাগড়ি বাঁধিয়াছে,যে ছায়াটা! উলঙ্গ ছিল সেট? কতকগুল! কাপড় পরিয়াছে,যে ছায়া কাঙ্গা- লিনী ছিল সেটা নানা আভরণে ভূষিতা হইয়াছে, যে ছায়াটা বন্ধ্যা ছিল সে দিব্য একটা হুষ্পুষ্ট ছেলে পাইয়৷ তাহাকে কোলে করিয়া রহিয়াছে। এত পরিবর্তনের এত পরিপাটি, এত সুন্দর, এত কল্পনাময় খেলা আর কিছুতেই দেখিতে পাই না। খেলা দেখিতে দেখিতে সব ভুলিয়া যাই-_বাড়ীঘর স্ত্রীপুত্র ধনজন আত্মপর লব ভুলিয়া যাই-_ভুলিয়া এই খেলায় খেলিতে থাকি, খেলিতে খেলিতে ভ্রম হয় যে ন্বয়ং কল্পনার সহিত খেলি- তেছি। তখন কল্পনার রূপ দেখি, আকার দেখি, হৃদয় দেখি, প্রাণ দেখি, স্বরূপ দেখি--দেখিতে দেখিতে কল্পনায় কল্পন। হইয়া যাই। এত অন্ন আয়াসে, এত অল্প সময়ে, এত অন্ন সাধনায় আর কোঁন রকমেই এত কর্পনাময় হইতে পারি না সেক্সপীয়র পড়িয়াও নয়, শেলী পড়িয়াও নয়, কিছু দেখিয়া, কিছু পড়িয়া নয়। ছায়াতে কল্পনার পূর্ণ এবং বড়ই প্রসন্ন মুভি আছে। দেখিলে দেখিতে পাইবে ছায়া কিছুই নয় এমন কথা কি বলিতে আছে?

পৃথিবীতে যত জিনিস আছে সকলের অপেক্ষা ছায়া বেশী আধ্যাত্মিক ভাবাপন্ন। যে মানুষ প্রক্কৃত উন্নতি লাভ করিয়াছে,

ছাঁয়।। ১৪

যাহার মনোবৃত্তি সকল সমুচিত কত প্রাপ্ত হইয়াছে যাহার দৃষ্টি স্থল নয়, স্ক্ষ, অর্থাৎ যে চর্চক্ষের সহিত মানসচচ্ষু সংযোগ নাকরিয়া কোন জিনিস দেখে না, দে একট] ফুল দেখিবার সময় ফুলে যে রঙট! চর্-চক্ষে দেখা যাঁয় সে রঙটা দেখে না» সে রঙটাকে মনে মনে আর এক রকম করিয়া লইয়া! দেখে. একটা! পাতা দেখিবার সময় পাতার যে আকৃতি চর্-চক্ষে দেখা যায় সে আকুতি দেখে না, মে আকৃতিকে মনে মনে আর এক রকম করিয়৷ লইয়া দেখে, ইত্যার্দি। অর্থাৎ সে একটা রঙ- বিশেষের বাঁ আক্ুৃতি-বিশেষের বিশেষতটুকু দেখে না, সকল রঙের এবং সকল আকৃতির যে নারমর্শটুক তাহার কল্পনায় প্রবেশ করিয়াছে সেই সার মর্শের সংযোগে সেই রঙ-বিশেষ বা আকুৃতি-বিশেষ দেখে। এই রকম করিয়! দেখিলে নে একটি বস্ততে অনেক বস্ত দেখে, একটি রঙে বা আকৃতিতে অনেক রঙ বা আকৃতি দেখে। বস্ত-বিশেষের বিশেষত্ব তাহার দৃষ্টিকে আবদ্ধ করিয়া! রাখিতে পারে না, সে বস্ত-বিশেষের সীমা অতি- ক্রম করিয়া অসীমে প্রবেশ করে, বলিতে গেলে তাহার চর্ম চক্ষের পাত! বন্ধ হইয়া আইসে-সে মানসচক্ষের দ্বারা বাহা- জগৎকে মানসজগত্ে পরিণত করিয়া ফেলে এই রকম করিয়া দেখিলেই বাহজগৎ্ দেখা হয়, শুধু চর্মমচক্ষে দেখিলে বাহবস্ত-বিশেষ দেখা হয় মাত্র, বাহাজগৎ দেখ! হয় না। বাহ- জগত বাহ্যবস্তর সমষ্টি সে সমষ্টি দেখিবার প্রকৃত চক্ষু চর্মচক্ষু নয়, মানসিক চক্ষু; প্রকৃত শক্তি ইন্দ্রিয় নয়, আনম্ম!। ছায়াও চর্্চক্ষে দেখিবার জিনিস নয়, মানস চক্ষে দেখিবার জিনিস। বুক্ষের ছায়ায় বৃক্ষের আকার আছে মাত্র--বৃক্ষের ত্বকের ফাটা-

২5 ত্রিধারা।

ফুটো, টিপিঢাঁপি, আটাঁশেয়ালা, উইপিপড়া কিছুই নাই, বৃক্ষের পাতার ভাল রঙ মন্দ রঙ কিছুই নাই, বৃক্ষের ফুলের কি গৌরব কি মলিনতা কিছুই নাই। অতএব বৃক্ষের ছায়ায় শুধু বৃক্ষের আকার আছে মাত্র-এবং সে আকার বড়ই বিশুদ্ধ, বড়ই সু্ম, যেন একথানি ছায়া, একথানি স্বপ্ন, একটি কল্পনাময় কল্পনা, আত্মার ন্যায় শুদ্ধ এবং স্থক্ম। বৃক্ষের ছায়া বৃক্ষের কাম ক্রোধ লোভ মোহ মাৎসর্ধ্য বিবর্জিত_বৃক্ষের থক, সুন্দর, শুদ্ধ, স্বপ্নবৎ বৃক্ষত্ব মাত্র। সে ছায়া হুর্যালোকে দেখিও, বত গার দেখিও, পরম জ্ঞান, পরম আনন্দ লাভ করিবে। কিন্ত স্থির বায়ুতে একবার জ্যোত্স্নীলোকেও দেখিও | জ্যোৎ- ন্নালোকে সে ছায়া দেখিলে পাগল হইয়| যাইবে-_-সে ছাঁয়! জ্যোতস্লালোকে এতই কল্পনারূপী, এতই তাঁবরূপী, এতই আত্ম" রূপী। সে আলোকে সেছায়াকে কোন-কিছুর ছারা বলিয়া মনে হয় নাঁ_মনে হয় বুঝি সে ছায়া ইচ্ছাময়ের সাধের একটি স্বতন্ত্র স্থষ্টি। সে ছাঁয়! দেখিলে বাহাজগৎ ভুলিয়া যাইতে হয় সে ছায়া না দেখিলে আধ্যাম্বক জগৎ কাহাঁকে বলে বুঝিতে পারা যায় না। জড় হইতে আত্মার প্রভেদ যদি বুঝিতে চাঁও তবে সেই বৃক্ষ হইতে বৃক্ষের সেই ছায়ায় প্রবেশ করিও ছায়! কিছুই নয় এমন কথ! কি বলিতে আছে?

যে ছায়ার কথা বলিতেছি সে ছায়া যে একেবারেই চোকে দেখিবার জিনিস নয় এমন কথা বলি না। প্রতিভা সম্পন্ন চিত্রকরের চিত্র য্দি চোঁকে দেখিবার জিনিস হয় তবেনে ছায়াও চোকে দেখিবার জিনিন। অথচ চোকে দেখিবার জিনিস চোকে দেখিলে লোভ লালসা প্রভৃতি যে রকম চিত-

] ছায়া। হ১ 'নিকার জনয থাকে, সে ছায়া দেখিলে সেরকম কিছু হয় না। বরং চিত্ত বিকৃতাবস্থায় থাকিলে মে ছায়৷ দেখিয়া চিত্ত সুস্থ নুনির্শল এবং পবিত্রভাব প্রাপ্ত হয়। যেবস্ত দেখিলে চিত্ত বিচলিত ন! হইয়। স্ুষ্টির সংযত হয় সেই বস্তই চৌকে দেখ! উচিত যে ছায়ার কথা বলিতেছি সে ছায়! সেই রকমের বস্ত। কিন্তু সে ছায়। বুঝি কেহ এখনও ভাল করিয়া দেখে নাই এবং বোধ হয় কোন দেশে প্রতিভাঁশালী চিত্রকর এখনও সে ছায়া মানবজাতির শিক্ষা, সুখ এবং আনন্দ বর্নার্থ অতুল কৌশলে চিত্রিত করেন নাই। দেশে ভাল চিত্র বা চিত্রশাল! নাই_ইউরোপে আছে। কিন্তু যেছায়ার কথা বলিতেছি ইউরোপের চিত্রশালায় সে ছায়ার চিত্র আছে কি নাঁজানি না। বোধ হয় নাই। মহামতি রঞ্গিণের গ্রন্থেও মে ছায়ার চিত্রের কথা পড়ি নাই। সে ছায়ার চিত্র কি হইবে না? যদিহয় বোধ হয় ভারতেই হইবে যে দেশের লোক নির্মল, নিলিপগ্ত আত্মার কথা বুঝে কেবল সেই দেশেই সে চিত্র চিত্রিত হওয়া সম্ভব লোকে বলে ছায়া কিছুই নয়। এক হিসাবে ছায়৷ কিছু নয়ই বটে, কেন ন! ছায়ার আকার আছে মাত্র, শরীর নাই, সৌরভ নাই, কিছু নাই। কিন্তু কিছু ন। হইয়াও ছায়া একটা স্বতন্ত্র জগৎ। মধ্যাহ্ন কালে যখন আকাশে প্রখর রবি, পৃথিবী ন্্ধ্যের শুভ্র আলোকে আলোকময়, তখন পথের ধারে একটি বৃক্ষের ছায়ায় গিয়া বদিও, নিশ্চয় মনে হইবে যে যে স্থান ব্যাপিয়া সেই ছায়! সেই স্থান একটি স্বতন্ত্র স্থান, সেই ছায়া-রেখার পরেই একটি শ্বতত্ত্র স্থান, একটি শ্বতস্ত্র জগৎ। মধ্যাহ্ন কালে পথের ধারে সেই রকম বৃক্ষচ্ছায়ায় বনিয়া দেখি-

২২ ত্রিধারা

য়াছি। সম্মুখে ছুই হাত তফাতে হ্র্য্যালোকোদ্দীপ্ত পথ দিয়া ফত লোক গিয়াছে দেখিয়াছি কিন্ত মনে হইয়াছে আমি একটা জগতে বসিয়া আছ্ছি আর সেই নকল নর নারী আর একটা জগতে চলাফেরা করিতেছে মনে হইয়াছে যে আমার সম্মুখের সেই ছায়া-রেখাটি ছুইটি ভিন্ন জগতের মধ্াস্থিত একটা অ্ল্লজ্ঘণীয় প্রাকার বা প্রাচীর মনে হইয়াছে সে ছায়ায় বনিয়া আমি তাল কথা, মন্দ কথা, স্তুখের কথা, ছুঃখের কথা নব কথা। কহিতে পারি, কেহ আমার কথা »গুনিবে না, শুনিতে পাইবে না, শুনিতে আসিবে না। এবং সেই ছায়ায় বলিয়া মনের কথা কহিতে কছিতে ইহাও দেখিয়াছি যে সম্মুখ দিয়! যে সকল নর নারী চলিয়! যাইতেছে তাহারা যেন আমাদিগকে তাহাদের জগতের কি তাহাদের মতন কেহ নয় মনে করিয়া আমাদিগকে দেখির়াও না৷ দেখিয়া চলিয়া যাইতেছে তাই বুঝি মনের কথা! কহিতে হইলে লোকে রাস্তা হইতে সরিয়া গিরা একটা! গাছতলায় দাড়াইয়া কথা কয়। তাই বুঝি গোল্ডন্মিথ. গাছতলার উল্লেখ করিয়। বলিয়াছেনঃ__

707 21107059089 20 70901000] ০00678010200.%

ছায়। একটা স্বতন্ জগৎই বটে। মান্য খোলা জগতে বাস করিলে সুর্যের তাপে পুড়িয়া মরে তাই মান্ৃষ গৃহনিশ্দাণ করিয়া তাহার ছায়ায় জীবন রক্ষা করে। জড়পদার্থের ছাঁয়া না থাকিলে মানুষ জড় জগতে থাকিতে পারিত না, থাকি- লেও অশেষ এবং অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করিত। জড়পদার্থকে ছায়্া-বিশিষ্ট করিয়! জগদীশ্বর একটি জগতের ভিতর আর একটি জগ প্রস্তুত করিয়াছেন। কেন করিয়াছেন তাহা তিনিই

ছায়া ২৩

জানেন। কিন্তু আমরা সেই ছায়াময় জগতে জগদীশ্বরের সুন্দর, স্থুশীতল, সঞ্জীবনী ছায়! দেখিতে পাই আমর] দয়ার কাঙ্কাল, আমাদের মনে হয় সেই ছায়াময় জগৎই দীননাঁথের দয়ার প্রকৃত স্বরূপ ছায়! কিছুই নয়, কাঙাল মানুষের মুখে কি একথা সাজে ? মান্থষের স্বভাব ভাল নয়। মানুষের ধর্জ্ঞান বড়ই কম!

মানুষের দেহই কি শুধু ছায়া-জগতে বাঁচিয়া থাকে পৃষ্টিলাভ করে ? মানুষের মনও ছায়া-জগতে থাকিয়া উন্নত পরিপুষ্ট হয় প্রথম মন্গুষ্যের অবস্থা মনে কর দেখি--কিছু জানে না, কিছু বুঝে না, ভয়ে আকুল, পদে পদে ভ্রমবশতঃ ভীষণ অবস্থাপন্ন, রোগে নিক্ষপায়, পুজায় পিশাচ-শাসিত। অনেক ভূগিয়া, অনেক সহিমা প্রথম মন্কুষ্য মরিয়া গেল। পৃথিবীতে কিছু রাখিয়া গেল না-কেবল এক খণ্ড পশুচর্ আর ছুই খণ্ড কাষ্ঠ রাখিয়া গেল। দ্বিতীয় মনুষ্য সেই চর্ধটুকু এবং কাঠ দুইখানি পাইয়া যেন কতই শান্তি লাভ করিল, কত জালা যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল। আভতপতাপিত পথিক বৃক্ষের ছায়া পাইলে যেমন চরিভার্থ হয়, প্রথম মনুষ্যের চর্মথণুটুক্‌ এবং কাঠ ছুইখানি পাইয়া দ্বিতীয় মনুষ্যুও তেমনি চরিতার্থ হইল। দেই চর্থগটুকু এবং দুই খানি কান্ঠে দ্বিতীয় মনুষ্য প্রথম মন্ুষয্যের ছায়া দেখিতে পাইল। দেই ছায়ায় বসিয়া পণু-বধার্থ সে একটি পাথরের তীর নির্মাণ করিল। নির্মাণ করিয়! তাহার পূর্ব পুরুষের কান্ঠ এবং চর্ম থওড এবং তাহার আপনার পাথরের তীরটি রাখিয়া মরিয়া গেল। তৃতীয় মনুষ্য সেই সবগুলি পাইয়া আরো একটু বেশী

২৪ ত্রিধারা

স্থথশাস্তি লাভ করিল, ক্রেশ হইতে আরো একটু মুক্ত হইল, ভাহার জীবন-পথের যন্ত্রণা আরে! একটু কমিল, তাহার জীবন- পথের উপর তাহার পূর্বব পুরুষের ছায়া আরো! একটু প্রশস্ত, আরো! একটু ঘনীভূত হইল। এইরূপে মন্ুষ্য-পর্যযায় যত বাড়িতে লাগিল, মাষের পূর্বব পুরুষের ছায়াও তত বাঁড়িতে লাগিল, সেই ছায়ায় বসিয়া মান্ষের স্থুখ, শান্তি,সদ্বদ্ধি,সদাশয়, স্থুনীতি, স্থুরীত, সাতিকতা, সর্বাঙ্গীন সৌনর্ধ্য তত বৃদ্ধি হইতে লাগিল। ক্রমে সেই ছায়৷ বাড়িয়া বাড়িয়া গাঁ়তর হইয়া বিরাট-রূপ ধারণ করিল। সেই বিরাট ছায়ায় বসিয়! বিরাট মন্ুষ্য-সমাঁজ ধর্মরশান্ত্রে, ইতিহাসে, পুরাণে, দর্শনে, কাব্যে, বিজ্ঞানে, শিলে বিরাট-কীর্তি সম্পন্ন করিয়া বিরাট -সভ্যতা ষ্টি করিল। মানুষের মন পূর্ব পুরুষের বিরাট ছায়া পায় বলিয়াই বিরাট মূর্তি ধারণ করিতে পারে নহিলে মান্থষের পর মানুষ, পুরুষের পর পুরুষ, পর্যায়ের পর পর্ধ্যায় পশু পক্ষীর নায় সমান কাঙ্গাল সমান শোকার্ড থাকিয়া যায়, জীবন-পথে সমাঁন তাঁপে জলিয়! পুড়িয়া মরিয়া যায় মানুষের দেহ এবং মন উভয়ই ছায়ায় থাকিয়া রক্ষিত এবং পরিবদ্ধিত হয়। বাহজগতে এবং অন্ত- অগিতে ছুইখান1 প্রকাণ্ড সামিয়ানা টাান আছে। সেই দুই খান! সামিয়ানার ভিতর প্রকাও ছায়া-জগৎ ঝৌলান রহিয়াছে তন্মধ্যে একখানা ছায়া-জগতে মানুষের দেহ আর একখানা ছায়া-জগতে মানুষের মন স্থথে বাস করিয়া! স্ুথ সম্দ্ধি লাভ করিতেছে দেহ এবং মন উভয়েই পথের পথিক-_ছায়াঁ না পাইলে কি পথে চলিতে পারে? তবুও মানুষ বলে কি না যে ছায়! কিছুই নয় ! ছায়ায় থাকিয়া ছাঁয় চেনে না, ছায়া মানে

ছায়া। চি

ন! বলিয়। মানুষ এত চেষ্টা করিয়াও প্রকৃত মহত্ব এবং উন্নতি লাত করিতে পারে নাই। যেখানে মানুষ ছায়! মানে না সেখানে মানুষের সকল চেষ্টা বিফল হয়। আজিকার শিক্ষিত বাঙ্গালী ছায়ার মাহাস্থ্য মানে না। তাই স্বর্ম মর্ত্য পাঁতাঁল তোলপাড় করিয়াও দে আজ মানুষ নয়, পাশ্চাত্য সভ্যতার মহাকেন্ত্রস্থল বিলাত দর্শন করিয়াও বিকলমতি! মানুষের ছায়ায় বঞ্ধিত হইয়াও মানুষ যদি মানুষের ছায়া না মানে তাহা হইলে মাহ্ষ মাহষকে ছায়া দান করিতেও পারে না। ভাই আজি- কার শিক্ষিত বাঙ্গালী কি ন্বদেশীয় কি বিদেশীয় কোন দেশীয় আভপতাপিত পথিককে ছায়া দান করিয়া! জীবন-পথের যন্ত্রণার কিঞ্ষিন্নাত্রও উপশম করিতে পারিতেছে না তাই আজিকার শিক্ষিত বাঙ্গালীকে বলি, ছায়! মাঁনিয়। ছাঁয়া দান করিও, মানুষও হইবে, জীবনও সার্থক হইবে। নিজে ভক্ত এবং কৃতজ্ঞ না হইলে অপরকে কি ভক্ত ক্লুতজ্ঞ করা যায়?

ছায়া আত্মত্যাগের ফল। গাছের ছায়ায় গাছের রঙ থাকে না, গাছের দেহের পুর স্থুলতা থাকে না, গাছের জ্যোতি লাবণ্য থাকে না, গাছের তেজ থাকে না, গাছের রস থাকে না, গাছের ফুলের সৌরভ থাকে না, গাছের ফলের শাস বা নুম্বাদ থাকে না। গাছ সব ত্যাগ করিলে তবে গাছের ছায়া হয়। সব ত্যাগ করিয়া গাছ ছায়ারূপী হইলে তবে আতপতাঁপিত পথিকের আশ্রয়স্থল হয়। স্ত্রী পুত্র জনক জননী ভাই ভগিনী দাঁদ দাসী বন্ধু বান্ধব সুখ সম্পদ ভোগ বিলাস সব তাগ করিয়। সৃক্্ম ছাঁয়ারূপী হইলে পর তবে বুদ্ধ চৈতন্য অসংখ্য আতপতাপিত অনস্তপথের-পথিকের বিশ্রামস্থান

২৬ ত্রিধারা

হইয়াছিলেন। তুমি আমি ক্ষুদ্রলোক, বুদ্ধ চৈতন্য হইতে পারিব না। কিন্তু আমরা যেমন তেমনি ছায়ারূগী হইয়া তেমনি শ্ব্প প্রাণীর আশ্রয়স্থান হইতে পারি ত। কিন্তু সেইরূপ ছায়ারূপী হইতে হইলেও আমাদিগকে আমাদের অনেক জিনিস পরিত্যাগ করিতে হইবে। বহু দিন হইল আমার একটি হিন্দু বালিকার সহিত সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎ মাত্র তাহার উপর আমার স্তেহ জন্মে। বালিকা তিন চারি বৎসরের মধ্যে যৌবনে পদার্পণ করিল। তখন তাহার দেহ যেন যোলকলায় পূর্ণ হইয়া উঠিল। পূর্ণ জোয়ারে সুন্দর শ্রোতস্থিনী যেন কুলে কুলে পুরিয়া উঠিল, গাঙ্গ -ভরা জল যেন ছম. ছম. করিতে লাগিল। যুবতী শ্যামাজী _ কিন্তু শ্যামাঙ্গে সৌন্দর্য্য যেন ধরে না- শ্যামার্গীর সৌন্দর্যের ছটা যেন টাদের হাসির ন্যায় হাসিয়া বেড়াইতে লাগিল। বোধ হইতে লাগিল যেন যুবতীর পূর্ণ-প্রক্ষ,টিত দেহে পৃথিবীর সমস্ত খর নংযুক্ত হইয়াছে অত ধশ্বধ্য পাইয়াছেন বলিয়াই যুবতী যেন লজ্জার অত কুষ্ঠিত। এই সময় কিছু দিন আমি তাহাকে দেখিতে পাই নাই। আবার যথন দেখিলাম, তখন আর ভাহাকে দেখিলাম না, দেখিলাম তাহার একখানি ক্ষীণ পাগু,বর্ণ ছায়। বমিয়| রহিয়াছে! তাহার দেহের তত খশ্বধ্য তাহার দেহে নাইনে সমস্ত খর্বব্য তাহার ছায়ারূপী দেহের ছায়ারূপী অঙ্ক- স্থিত শত-দল-পন্ম-সদৃশ একটি শিশর দেহে অপিত হইয়াছে! শশবধ্যরূপিণী যুবতী আপনার সমজ্ত ধশ্বধ্য সভ্তভানকে দিয়া আপনি ছায়ারূপিনী জননী হইয়াছেন! তখন মনে হইল এমন করিয়া আপনার খশ্বধ্য পরকে দিতে বুঝি বুদ্ধ, চৈতন্যও পারেন না, পরের জন্য বুদ্ধ চৈতন্যও বুঝি এত ছায়ারূপী হইতে পারেন

বউ কথা কও। ২৭

না। যুবতীকে জননী হইতে দেখিয়া বুঝিলাম যে জগতে ছায়া হইতে না পারিলে জগতে মান্ষের জীবন বৃথা। আর বুঝিলাম যে যুবতী অপেক্ষা! জননী সুন্দর এবং বৃক্ষ অপেক্ষা! বৃক্ষের ছায়া সুন্দর, কেন না জননী অন্যের জন্য যুবতীর লব ত্যাগ করিয়া ছায়ারূপিনী হন এবং বৃক্ষের ছায়! অন্যের জন্য বৃক্ষের সব ত্যাগ করিয়া ছায়ারূপ ধারণ করে জগতে যদি সার্থক সুন্দর হইতে চাঁও ভবে বৃক্ষ জননীর ন্যায় আঁপ- নার নব ত্যাগ করিয়। ছায়ারূপ ধারণ কর। ছাঁয়াই পৃথিবীর সার পদার্থ। ছায়ার অর্থ বুঝিয়া ছায়া হইয়া পৃথিবীর সার পদার্থ হও

বউ কথা কও

“বৌ কথা কর, করে বিনয়, ভাঙছে বয়ের মাঁন।” দীনবন্ধু প্রভাত বর্ণনায় এইরূপ লিখিয়াছেন। কথাটী কিন্ত ঠিক নয়,_বউ-কথা-কও সকল সময়েই, সকাল সন্ধা! সকল সময়েই, বউ কথা কও বলে-_তথাপি দীনবন্ধুর কথাটা ঠিক নয়।

বঙ্গের___-জেলাঁয় কৌশিকী নদী প্রবাহিতা। নদীটি ক্ষুদ্র দেখিতে যেন এক ছড়া রূপার হার। নদীর ছুই কুলে শস্যক্ষেত্র, আত্রকানন, প্রাচীন জনপূর্ণ পল্লিগ্রাম পল্লিবাশিনীরা নদীর জলে বাসন মাজে, ন্নান করে, সন্ধ্যার প্রাক্কালে আগ্রিবনিমজ্জিতা হইয়া সুখ নংসাঁরের কথা কয়। নদীতে প্রচুর মৎস্য-_পলিবাসীরা মনের সাধে মাছ খায়।

২৮ ত্রিধারা

কৃষকেরা নদীর জলে আপন আপন ক্ষেত্রে সোণা ফলায়। কৌশিকীধোৌত জনপদে “অকাল অজন্মা” হয় না

কৌশিকীতীরে-_গ্রাম। গ্রাধানি প্রাচীন এবং বহুসংখ্যক ভদ্রলোকের বাসস্থান গ্রামের একস্থানে কৌশিকীর ধারে একটা বৃহৎ আঅকানন। দেই আত্কাননে ঘোষ মহাশয়দিগের বাড়ী। বৃহৎ গোষ্ীর বৃহৎ বাঁড়ী। বাড়ী সাত কি আট অংশে বিভক্ত। এক অংশের কর্তা লক্ষমীকাস্ত ঘোষ। লক্ষমীকাস্তের পাচ সহোদর লম্দমীকান্ত বর্ষীয়ান পুরুষ। তাহার পাঁচটা সহোদরেরই বিবাহ হইয়াছে এবং তাহাদের সকলেরই সন্তানাদি হইয়াছে। ছেলে মেয়ে পৌত্র পৌত্রী দৌহিত্র দৌহিত্রী প্রভূতিতে লক্ষমীকান্তের গৃহ একটা জনপদতুল্য

লক্্মীকান্তের লক্ষ্মী স্থপ্রসন্ন। তাহার একখানি তানুক আছে। তাহার আয় নিতান্ত কম নয়। সেই আরে তীহার বাড়ীতে সদাত্রত দোল ছুর্গোৎ্সব বার মাসে তের পার্বণ সকলই অতি সুচাকু রূপে সম্পন্ন হয়। তাহার বাড়ীতে ভিক্ষুক নিরাশ হয় না, দায়পগ্রস্থ ব্যক্তি ভগ্মনোরথ হয় না, জ্ঞাতি উপেক্ষিত হয় না, কুটুম্ব পরিচর্ধ্যায় মুগ্ধ হয়। তাহার গোলাবাড়ীতে বড় বড় শস্যপূর্ণ গোলা। তাহার গোয়ালবাঁড়ীতে বহুসংখ্যক গাভী হলবাহী বৃষ তীহার বাগাঁনে আত কাটাল নারিকেল তিস্তিড়ি প্রভৃতি নানাবিধ বৃক্ষ তাহার বড় বড় পুক্ষরিণী__ তাহার জল অম্বতের ন্যায় স্বাছ স্থাস্থ্যকর-_পুক্ষরিণীতে অজত্র মৎস্য তিনি পুণ্যবান-_তীহার সংলার সুখের সংসার, তাহার ভাগ্ার লক্ষ্মীর ভাওার।

লক্ষমীকান্তের পত্ী বিদ্যাবতী লক্মীকান্তের গৃহের গৃহিধী।

বউ কথা৷ কও। ২৯

বিদ্যাবতী রূপে গুণে লক্ী। বিদ্যাবতীর অনেকগুলি দৌহিত্র দৌহিত্রী। তাহার জোন্ঠ পুত্রের একটী পাচবৎসরের পুত্র- সম্ভান। বিদ্যাবতী এষ বৃহৎ পরিবারের-_এই বৃহৎ নংসারের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। পতি পুত্র পুত্রবধূ কন্যা দেবর দেবরপত্থী ননদন কুটুপ্ষিনী পরিচারক পরিচারিকা সরকার গোমস্তা গুরুমহাশয় পাইক চৌকিদার রাখাল কুষাঁণ গাভী গোবৎস তিনি সমান যত্বে সকলেরই নেবা পরিচর্যা করিয়া! থাকেন-_ সকলেই তাহার স্নেহে মুর!

আর স্বয়ং বিদ্যাবতী তাহার পুত্রবধূর গুণে মুগ্ধ তাহার বৃহৎ সংসারের বৃহৎ যজ্ঞবৎ নিত্য শুশ্রষায় তাহার পুত্রবধূই তাহার প্রধান সহায়_-তাহার দক্ষিণ হস্ত স্বরূপ পুত্রবধূর নাম সরস্বতী সরন্বতী যেমন ঘরের মেয়ে, যেমন ঘরের বউ, তাহার গুণও তেমনি বউ লইয়! শ্বাশুড়ি পাগল। বউ কাছে থাকিলে শ্বাশুড়ির চক্ষে পলক পড়ে না শ্বাশুড়ি মনে করেন, বউ আছে তাই আমার সব আছে, বউ গেলে আমার কিছুই থাকিবে না, আমার সোণার সংসার ছারখার হইয়া যাইবে

কথা আমরা সকলেই জানি।_-আঁজ আর এক কথা শুনাইব।

বিদ্যাবতী প্রাতঃক্নান করিয়া রন্ধনশালায় প্রবেশ করিয়। দেখেন বউ তথায় নাই__রন্ধনের কোন আয়োজনই হয় নাই। পূর্ব রাত্রিতে বউয়ের কিঞ্চিৎ পীড়া হইয়াছিল তিনি তাহা জানিতেন না হঠাৎ তাহার রাগ হইল। তিনি রাগভরে বধূর নিকট গিয়া বলিলেন-_বাছা, তোমার পিত্রালয়

৬5 ত্রিধারা

ময় যে গৃহকর্ট্নে অবহেলা করিবে বিদ্যাবভীর যেমন রাগ হইয়াছিল তাহার তিরস্কার তেমন কটু হইল না বটে; কিন্তু তিরঙ্কার কিছু মিঠে রকম হইল বলিয়াই বধূর প্রাণে কিছু বেশী বিধিল।

শ্বাশুড়ি রন্ধন করিতে লাঁগিলেন__বেলা হইতে লাগিল তথাপি বধুরন্ধনশালায় আসিলেন নাঁ। আরো বেলা হইল _ তখন শ্বাশুড়ি বধুকে ডাকিতে লাগিলেন--তথাপি বধূ রন্ধন- শালায় আঁসিলেন না তখন শ্বাশুড়ি একবার বধর ঘরে গিয়া দেখিলেন, বধু গৃহের একটী কোণে বসিয়। আছেন, তাহার অবগুঠনবন্ত্র চক্ষের জলে ভিজিয়। গিয়াছে বিদ্যাবতীর হৃদয় ব্যথিত হইয়া উঠিল--তিনি বধূর হাত ধরিয়া তাহাকে কতই বুঝাইলেন | কিন্তু বধু উঠিলেন না। তখন বিদ্াবতীর ছুঃখের উপর ভয় হইল। তিনি কর্ভাকে অস্তঃপুরে ভাকাইয়া আনা- ইয়া তাঁহাকে কাতর স্বরে সকল কথা বলিলেন। লক্ষমীকাস্ত পত্রীকে কিঞ্চিৎ তিরস্কার করিয়া মহা ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। প্রথমে সহোদরদিগকে, তৎ্পরে কন্যাগণকে, তারপর দৌহিত্র দৌহিত্রীরিগকে, তারপর ভরাতৃবধূদিগকে, তারপর পরিচারিকা- দিগকে--এইরূপে বাড়ীর স্ত্রী পুরুষ বালক বালিকা সকলকে জড় করিয়া বলিলেন_-“আজ বড় বিপদ, আজ বউমা রাগ করিয়াছেন, তোৌমর! সকলে যেমন করিয়। পার বউমাকে সান্তনা কর, বউমা মা উঠিলে আমি আজ জলগ্রহণ করিব না।” তখন সকলেই কর্তা মহাশয়ের ন্যায় ব্যতিবাস্ত হইয়। পড়িল মেয়ে পুরুষ বালক বালিকা পরিচারিক! গ্রভৃতি সকলেই বধূকে অন্থনয় বিনয় করিতে লাগিল। তথাপি বধূ উঠিলেন না।

বউ কথা কণড। ত$

বেল! তখন দ্বিগ্রহর -সুধ্যদেব মধ্যাকাশে-তখনও লক্ষ্মীকান্তের বাড়ীর শিশুদিগের পর্যাস্ত আহার হয় নাই। এক বধূর জন্য লক্ষমীকান্তের সেই সোথার সংসারে কাহারো মনে তখন মুখ নাই-_সকলেই সশঙ্কিত সন্তপ্ত-সকলেই ভাবিতেছে, বেল! দ্িপ্রহর হইল, বধূ এখনো মুখে হাঁতে জল দিলেন না, না জানি কি অমঙ্গলই ঘটিবে! দ্বিপ্রহর অতীত হইল ছুই একটা শিশু খাইবার জন্য কীদিতে আরম্ভ করিল লক্ষমীকাস্ত আর থাকিতে পারিলেন না। তুমি কি অনর্থই . ঘটাইলে, পত্বীকে এই কথা বলিয়। লক্মীকান্ত স্বয়ং বধূর কক্ষা ভিমুখে গমন করিলেন বিদ্যা- বতী জড়নড হইয়া তাহার পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করিলেন ঠিক সেই সময়ে সেই গভীর আত্রকানন মধ্যে পাখী ভাকিল-- বউ কথা কও লক্ষ্মীকান্তের পাঁচ বৎসরের পৌত্র বলিয়া উঠিল-_মা, $ তোকে কে কথা কইতে বল্চে ! বিদ্যাবতী বলিলেন-__মা, কোথাকার বনের পাখী আশিয়া তোকে নাধিতেছে, তবুও উঠিবি না মা। লক্মীকাস্ত বলিলেন_উঠ মা, তুমি আমার গৃহের লক্ষ্মী, তুমি অনাহারে থাকিলে আমার সংসারের অমঙ্গল হইবে সরন্বতী শিশুকে কোলে লইয়। আস্তে আস্তে উঠিলেন।

বউ-কথা-কও, ডাকে সকল পময়েই-প্রভাতেও ডাঁকে-- কিন্তু বউয়ের মাঁন ভাঙ্গে কেবল দিপ্রহরে প্রভাতে পত্রী মান হয়, বউয়ের মান হয় না। বউ-কথা-কও শয়নগৃহের পাখী নয়_-সংসারাশ্রমীর সংসারক্ষেত্রের পাখী। হিন্দুর বধূর অপীম

৩২ ত্রিধারা

গৌরব আর বউ-কথা-কও পক্ষী সেই অসীম গৌরবের অনস্ত- প্রেরিত অনন্ত-বিহারী গায়ক।.

দর বধূর অসীম গৌরব কেন নাহিন্দুর বধূ ভূত ভবিষ্যতের গর্থিস্থল। বধূ বিনা হিন্দুর উত্তর পুরুষের অভাব হয় এবং উত্তর পুরুষের অভাব হইলেই পূর্ব পুরুষেরও অভাব হয়। বধূ বিনা বংশের ধার! অবিচ্ছিন্ন থাকে না_সমস্তকুলম্মতি ব্যর্থ লুপ্ত হইয়া যায় বর্ধিত পরিবর্ধনশীল শক্তি ছারখার হইয়! এুকান্তিক অকর্পণ্যতায় পরিণত হয়। তদপেক্ষা লজ্জা, স্বণা, হীনতা আর নাই। ক্কত্ক্রিয়া অর্থাৎ যে স্থষ্টিতে সি রক্ষা হয় সেই সষরক্রিয়া সর্বাপেক্ষা গৌরবের কার্ধ্য। ভগবানের সর্ব প্রধান কার্য ক্ষ্টি। বিনা পুণ্যে স্থষ্টি হয় না__ যেখানে পাপ সেখানে স্ৃট্টি অম্ভব। আর বিনা পুণ্যে স্থটি রক্ষাও হয় না_ পরিবার বল, সমাজ বল, জাতি বল, পাপ স্পর্শে সকলই লয় হইয়া যায়। অতএব পারিবারিক স্থিতি বংশা- বলীর ধারাবাহিকতা পুণ্যরূপ মহাঁশক্তির ফল। এবং সে জন্য পারিবারিক স্থিতি পুরুষের ধারাবাহিকতা হিনুদিগের মধ্যে এত প্রার্থণীয় এত গৌরবের জিনিস. হিুর বধূ সেই পারিবারিক স্থিতি ধারাবাহিকতার হেতু বলিয়া তাহার গৌরব অসীম এবং সেই জন্যই সেই অনন্ত-প্রেরিত অনন্ত- বিহারী বউ-কথা-কও পাখী গৌরবরূপিনী হিন্দুর বধূর উপাসনায় গৌরব কীর্ভনে নিযুক্ত

ছুইটি হিন্দু পত়ী।

পড়ী একমনে পতিকে ভক্তি শ্রদ্ধা করিবেন__পতির সহস্র অপরাধ নত্বে পত্ী তাহাতে অন্ুরক্তা থাকিবেন এবং তাহার তুষ্টিসাধন করিবেন--পতিতে পত্থী সম্পূর্ণরূপে আস্মবিসর্জন করিবেন--প্রাচীন সংস্কৃত পুরাণ সংহিতা কাব্যাদিতে এইরূপ উপদেশ দেখিতে পাওয়া যায়। বষ্চিম বাবুর বিষবৃক্ষ কৃষ্ণ কান্তের উইল প্রাচীন সংস্কত গ্রস্থ নয়, আধুনিক বাজালা গ্রস্থ। এই ছুইখানি আধুনিক গ্রন্থে ছুইটি পত্রী.দেখিতে পাওয়া যায়_- বিষবৃক্ষে সথর্ধযমুখী, কৃ্ণকান্তের উইলে ভ্রমর হ্ৃর্ষ্যমুখী ভ্রমর প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের আদর্শ পত্বীর সদৃশ কিনা একবার বুঝিয়া দেখ আবশ্যক

বঙ্কিম বাবুর উপন্যাস দুইখানির প্রারস্তে দেখিতে পাওয়া যায় যে সুরধ্যমুখী ভ্রমর উভয়েই পতিঞ্রেমে মুগ্ধ হুরধ্যমুখী বলেন-_-"পৃথিবীতে যদি আমার কোন সুখ থাকে, সে দ্বামীঃ পৃথিবীতে যদি আমার কোন চিন্তা থাকে,তবে সে স্বামী ; পৃথি- বীতে যদি আমার কোন কিছু সম্পত্তি থাকে, তবে নে শ্বামী।”

ভ্রমর বলেন-_-“আমি তোম1 ভিন্ন জগৎসংসারে আর কিছু জানি না। আট বৎসরের সময়ে আমার বিবাহ হই- যাছে_-আমি সতের বৎসরে পড়িয়াছি। আমি নয় বৎসর আর কিছু জানি না, কেবল তোঁমাঁকে জানি ।”

' আরো দেখা বায় যে কু্যমুখী ভ্রমর গতিতে কেবল মুগ্ধ

মন, দেবতা বা ওরুপদারূঢ় ভাবিয়া পতির প্রতি ভক্তের ন্যায় ভক্তিমতী |

৩৪ ত্রিধার|।

্ধ্যমুখী স্বামীকে বলিতেছেন--“তুমি আমার সর্বস্ব তুমি আমার ইহকাল, তুমিই আমার পরকাল ।: তুমি পাপ হ্্যুখীর জন্য দেশত্যাগী হইবে?